Banglar Chitra
`আরও ৫ টি বছর ক্ষমতায় থাকা একান্ত প্রয়োজন’
Sunday, 16 Dec 2018 18:00 pm
Banglar Chitra

Banglar Chitra

‘দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আরও ৫ টি বছর ক্ষমতায় থাকা একান্ত প্রয়োজন’ বলে মন্তব্য করে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে দেশবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? তা জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি তিনি জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি এসময় বিএনপিসহ বেশ কিছু জোট নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক জোট ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের ‘নীতিভ্রস্ট’ ও ‘আদর্শহীন’ আখ্যা দিয়ে কোন স্বার্থে এরা স্বাধীনতাবিরোধী, দুর্নীতিবাজদের উদ্ধার করতে নেমেছেন সে প্রশ্নও করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে। তারা সরকার গঠন নাকি করবে। সরকারের প্রধান কে হবে, সেটা আজ পর্যন্ত জাতির সামনে দেখাতে পারে নাই। একটা প্রশ্ন রেখে যায় তাদের সরকারপ্রধান কে হবে? এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী; সে হবে? না ওই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আইভী রহমানের হত্যাকারী, সাজাপ্রাপ্ত আসামী সে হবে? না যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাজা দিয়েছি তাদের কাউকে করবে? সেটা তো তারা স্পষ্ট করে বলেন নি, সে কথা তো দেশবাসী জানেন না।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশবাসীর প্রতি নিজের আস্থার কথা জানিয়ে বলেন, দেশবাসীকেও বেছে নিতে হবে তারা কি ধরণের সরকার চায়? দেশের জনগণের ওপরই আমি এই দায়িত্ব ছেড়ে দিলাম। আমি একটা কথাই বলবো, নৌকা মার্কায় ভোট চাই। দেশের সেবা করে, দেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চাই। আমার বিশ্বাস আছে, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের ভোট দেবে।

দেশের উন্নয়নের চলমান ধারা অব্যাহত রাখতে টানা দুই মেয়াদের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের আরও ৫ টি বছর সরকারে থাকা একান্ত প্রয়োজন। সেজন্য আজকে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় আমি বাঙালি জাতির কাছে, বাংলাদেশের জনগণের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। এই কারণে যে, বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে।

‘স্বাধীনতাবিরোধী, খুনী, বুদ্ধিজীবি হত্যাকারী, গ্রেনেড হামলাকারী, দুর্নীতিবাজ, অস্ত্র চোরাকারবারি, সাজাপ্রাপ্ত খুনী আসামী এরা কখনো এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেবে না।’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন মানুষ ভালো থাকে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। তারা বলে, এটা নাকি স্বেচ্ছাচারীতা। স্বেচ্ছাচারিতাটা কিভাবে হলোÑআমার সেটা প্রশ্ন। স্বেচ্ছাচারীতার কি দেখতে পেলো তারা? তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে দেখলাম ঘোষণা করেছে যে, ‘১০ বছরের স্বেচ্ছাচারীতাকে তারা পরিবর্তন করবে’। পরিবর্তন কি জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাই সৃষ্টি, মানি লল্ডারিং, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়, বাংলাদেশে আবার সন্ত্রাস, আবার ভূয়া ভোটার দিয়ে ভোটার তালিকা, নির্বাচনের আগে প্রহসন, আবার দেশেল সমস্ত উন্নয়ন ধ্বংস করে দিয়ে দেশকে সম্পূর্ণভাবে আবার একেবারে অন্ধকার যুগে নিয়ে যাওয়া। এই পরিবর্তনটা তারা আনতে চান?

শেখ হাসিনা বলেন, তারা ছিল তো ক্ষমতায়। ৪৭ বছর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এই ৪৭ বছরের মধ্যে ৩৯ বছরই তো এরা ক্ষমতায় ছিল। কি দিয়েছিল মানুষকে? কি পেয়েছে মানুষ? মানুষ কিছু না পেলেও ওই বিএনপি জামায়াত জোট তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। যাদের কথা শুনেছি, ভাঙা সুটকেস-ছেড়া গেঞ্জি ছাড়া কিছুই নেই। তারা তো কতো সম্পদের মালিক...সম্পদ শুধু দেশে না বিদেশেও। ঘুষ দুর্নীতি করে তাদের আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। যার জন্য আজকে দুর্নীতির মামলায় হয় সাজাপ্রাপ্ত নয় আসামী। আর আমরা আমাদের ওপর দুর্নীতির অভিযোগ যখন দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সাথে ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবেলা করেছি। বিশ্বব্যাংক কোনো দুর্নীতি খুজে পায় নি। কানাডার ফেডারেল কোর্ট স্পষ্ট বলে দিয়েছিল, বিশ্বব্যাংকের সকল অভিযোগ ভূয়া।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কোনো কর্মের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মাথা হেট হোট সেটা কিন্তু করি নাই। বরং আজকে বাংলাদেশেল মানুষ যখনই যে বিদেশে যাচ্ছে, তারা একটা সন্মান পাচ্ছে, মর্যাদা পাচ্ছে। বাংলাদেশ আজকে একটা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠ হয়েছে। অর্থাৎ সেইটুকু করতে সক্ষম হয়েছি। তাহলে স্বেচ্ছাচারিতাটা কোথায়? উনারা নকি পরিবর্তন করে ফেলবেন। ঠিক আছে, খুব ভালো পরিবর্তন তারা করুক।

ঐক্যফ্রন্টের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যারা এক হয়েছে তারা কারা। একদিকে স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী। সেই যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা কিভাবে মনোনয়ন পায়। কিভাবে তারা এমপি হয়। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় চায় নি। তাদের দোসর কারা? যারা তত্ত্বকথা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। আমি আর কারো নাম নিতে চায় না। তাদের নাম নিতে গেলে মনে হয় যেনো, এই নামই মুখে আনা উচিত না। আমার তাদের জন্য করুণা হয়। কারণ তারা দিকভ্রষ্ট, তারা ভ্রস্টা হয়ে গেছে, তাদের আর কোনো নীতি নাই, নীতিভ্রস্ট। কাজেই এই নীতিহীন, আদর্শহীন এরা কখনো মানুষকে কিছু দিতে পারে না। পারে নাই। ভবিষ্যতেও পারবে না। এরা বাংলাদেশের আদর্শেই বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, যে চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আর কেউ বাংলাদেশকে পিছনে ফেলতে পারবে না। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের ওপর আমার আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে, বাংলাদেশের জনগণ কখনো ভুল করে না। তাদের ভোটের অধিকার, তাদের সাংবিধানিক অধিকার আর কখনো কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। সে সাহসও পাবে না। নৌকা মার্কা জনগণের মার্কা। নৌকা মার্কায় ভোট চাই।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সাজাপ্রাপ্ত, দুর্নীতিবাজদের উদ্ধার করতে নেমেছে আমাদের কিছু জ্ঞানী-গুণী এবং আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবিরা। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যাদের সাজা হয়েছে তাদেরই ছেলেরা মনোনয়ন পায় এদের কাছ থেকে। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে যারা যুদ্ধাপরাধী, সাজাপ্রাপ্ত কেউ কখনো কোনো স্থান করে দেয় না। কি দুর্ভাগ্য আমাদের যারা জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দেয়, বড়ো বড়ো কথা বলে, আজকে তাদের আদর্শহীনতা, সব ধরণের উচ্চবাচ্য সবকিছু যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। তারা এখন হাত মিলিয়েছে এদের সঙ্গে, কিসের স্বার্থে, কেনো?

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, ইসিতাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুন, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ। সভা পরিচালান করেন যৌথভাবে দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।